করোনার মতই এই ৭ টি রোগ পরবর্তী সময়ে পৃথিবীতে বয়ে আনতে পারে মহামারী

Loading...

যেকোনো মহামারী ভয়াবহতা কতটা হতে পারে তা বর্তমান প্রজন্ম বুঝে গেল। করোনা মহামারী তে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ চলে গেল। পৃথিবীতে যত বার মহামারী এসেছে মানুষের জীবনের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়ে চলে গেছে ও নিয়ে গেছে লক্ষ লক্ষ জীবন। আসলে প্রকৃতি কখন কিরূপে মানুষকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে যায় তা কেউ বলতে পারে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যেখানে এমন কতগুলি রোগের নাম রয়েছে যেগুলি যেকোনো সময় মহামারী আকার নিতে পারে। আসুন সেই রোগ গুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

• নিপা ভাইরাস সংক্রমণ।

এই নিপা ভাইরাস সর্বপ্রথম মালয়েশিয়াতে 1998 সালে প্রথম পর্যবেক্ষিত হয়। কি ভাইরাস ঘটিত সংক্রমনের উপসর্গগুলি হলো জ্বর, মাথা ব্যাথা, বিভ্রান্তি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। দু তিন দিন পরেই উপসর্গগুলি মারাত্মক আকার নিতে পারে। নিপা ভাইরাস হেনিপাভাইরাস শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত ফ্রুট ব্যাট বাদুড় থেকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। এই ভাইরাস ঘটিত রোগের এখনো কোন ভ্যাকসিন নেই।

Loading...

মহামারী

Loading...

• লাসা ফিভার।

লাসা ভাইরাস থেকে লাসা ফিভার হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ফিভার এ উপসর্গ দেখা দেয় না। তাছাড়া প্রকাশিত কয়েকটি উপসর্গ হলো জ্বর, বমি, দুর্বলতা, পেশী ও মাথা ব্যাথা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর মুখ ও পরিপাকতন্ত্র থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। লাসা ভাইরাস এর মৃত্যুর ঝুঁকি এক শতাংশ। উপসর্গ প্রকাশের এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যতই রোগটি সংক্রমিত ইন্দুরের থেকে ছড়ায় তারপর তা মানব দেহে সংক্রমিত হয়।

• মারবার্গ ভাইরাস ঘটিত রোগ।

Loading...

মারবার্গ ভাইরাস রোগ হচ্ছে এমন এক তীব্র অসুস্থতা যার সঙ্গে ইবোলা ভাইরাস রোগের তুলনা করা যেতে পারে। এই উভয় ভাইরাসই স্তন্যপায়ী প্রাণী কে যেমন বানর, বনমানুষ কে আক্রান্ত করতে পারে। মারবার্গ ভাইরাস ও ইবোলা ভাইরাস এর প্রকৃতি অনেকটা একই কিন্তু সংক্রমনের শুরুতে দুটির প্রকৃতি আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

Loading...

মহামারী

• ইবোলা ভাইরাস ঘটিত রোগ।

ইবোলা হলো ভাইরাল হেমোরেজিক ভাইরাস যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাইমেট কে সংক্রমিত করে। এই ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপসর্গ হলো তীব্র মাথা যন্ত্রণা, গলা ব্যথা, পেশিতে ব্যথা, এবং জ্বর। এছাড়া বাহ্যিক উপসর্গ হিসেবে বমি, ঘা, ফুসকুড়ি , ডায়রিয়া ও বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। এই রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত প্রবল। তবে 2019 সালে এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন অনুমোদন পায়।

• ডিজিজ এক্স।

WHO এর রোগের তালিকা এটি হচ্ছে সবচেয়ে বিপদজনক একটি রোগ।ডিজিজ এক্স সাধারণত একটি রোগ নয়। অন্যান্য রোগের থেকে একটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ধর্মী। আমাদের পৃথিবীতে যত সমস্ত অজ্ঞাত ভাইরাস রয়েছে তাদের নাম বোঝাতে এরকম নামকরণ। অজ্ঞাত ভাইরাসের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় 1.67 মিলিয়ন। এই ভাইরাস গুলি মানুষের অস্তিত্বের সময় থেকেই ধ্বংসলীলা চালিয়ে আসছে। সওয়াইম ফ্লু ও সার্স ভাইরাস উভয় ভাইরাসই শনাক্তকরণের পূর্বে ডিজিজ এক্স এর শ্রেণীতে ছিল। এছাড়াও HIV আবিষ্কারের পূর্বে এই ডিজিজ এক্স এর শ্রেণীতে ছিল।

মহামারী

• জিকা ভাইরাস।

ফ্লাভিভাইরিডাই পরিবারের একটি সদস্য হলো জিকা ভাইরাস। এটি এডিস মশার দ্বারা ছড়ায়। উগান্ডার জিকা বন থেকেই ভাইরাসের নামকরণ। 1947 সালে এই ভাইরাস প্রথম সনাক্ত করা হয়। ইয়েলো ফিভার ও ডেঙ্গু এর অনুরূপ হল এই ভাইরাস। এই ভাইরাসের উপসর্গ অত্যন্ত মৃদু এবং এর ভ্যাকসিন নেই। 2015 সালে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়।

• সার্স ও মার্স।

আমরা ইতােমধ্যে এ দুটি রােগের প্রাদুর্ভাব দেখেছি । কিন্তু তাই বলে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি না যে এগুলাে ভবিষ্যতে মহামারি হিসেবে আবির্ভূত হবে না । এসব রােগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসগুলাে পরিবর্তিত হয়ে ভিন্ন রূপে প্রত্যাবর্তন করতে পারে । উভয় রােগেই ফ্লু সদৃশ উপসর্গ দেখা দেয় , যেমন- জ্বর , পেশি ব্যথা ও গলা ব্যথা । এসব রােগের কোনাে ভ্যাকসিন নেই , যদিও এগুলাে কার্যকরভাবে মােকাবেলার জন্য আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে ।

মহামারী

• ক্রিমিয়ান – কঙ্গো হেমােরেজিক ফিভার।

এই ভাইরাস জনিত রােগের উল্লেখযােগ্য উপসর্গ হচ্ছে পেশি ব্যথা , উচ্চ জ্বর , বমি , ডায়রিয়া , মাথাব্যথা ও রক্তক্ষরণ । রােগটিতে আক্রান্ত হওয়ার দু’সপ্তাহ পর উপসর্গ প্রকাশ পেতে থাকে । এ রােগে লিভার অকার্যকর হয়ে যেতে পারে । টিক পােকার কামড় ও খামারের সংক্রমিত পশুর সংস্পর্শে ক্রিমিয়ান – কঙ্গো হেমােরেজিক ফিভার হয় । কৃষকেরা এ রােগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন । রােগটি আফ্রিকা , মধ্যপ্রাচ্য , এশিয়া ও বলকানে বেশি দেখা যায় । এখনো পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন উপলব্ধ নেই।

• রিফট ভ্যালি ফিভার।

এটি হলো একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। এর উপসর্গ মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে। মৃত উপসর্গ হিসেবে হিসেবে আমরা প্রায় ই পেশি ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, কাশি ইত্যাদি অন্যান্য ভাইরাস ঘটিত রোগের অনুরূপ। তবে এই রোগের তীব্র উপসর্গ গুলি ভয়াবহ। তীব্র উপসর্গ গুলির মধ্যে হলো:- মস্তিষ্কের সংক্রমণ ও দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। এই মস্তিষ্কের সংক্রমনের ফলে বিভ্রান্তি ও তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে । সংক্রমিত রোগীর রক্তের সংস্পর্শে অথবা মশা দ্বারাও সংক্রমণ ঘটে।