ধোনিও করে চাষ! আপনিও শুরু করুন এই ব্যবসা, এই মুরগির মাংস প্রতি কেজি হাজার টাকায় বিক্রি

বিগত বছরে করোনাকালীন পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক মানুষই নিজেদের চাকরি হারিয়েছেন। ফলে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ জন নতুন নতুন ব্যবসার কথা নিয়ে ভাবছেন। যদি আপনিও ব্যবসা করে প্রচুর টাকা আয় করতে চান তাহলে এই খবরটি আপনার জন্যই। বস্তুত, আজ আমরা এখানে মুরগির এমন এক প্রজাতির চাষের কথা বলবো যার সাহায্যে আপনিও বার্ষিক ১.২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

কড়কনাথ (kadaknath) মুরগি, মুরগির এই প্রজাতির কথা আমাদের রাজ্যে তেমন প্রচলিত না হলেও মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়াতে বিপুল পরিমাণে এই মুরগির চাষ করা হয়। ভারতে মূলত মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়া হল এই মুরগি চাষের প্রধান কেন্দ্র। এমনকি এখানে এই মুরগী জিআই ট্যাগও পেয়েছে। তবে এই মুরগির চাষ অন্যান্য সব মুরগির চাষের তুলনায় কিছুটা আলাদা।

এই মুরগি চাষের ব্যবসা শুরু করলে প্রতিমাসে বেশ মোটা টাকা উপার্জন করা যাবে। সাধারণ সময়ে এই মুরগী ৭০০-১০০০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হয়। তবে শীতকালে যখন এর বেশি চাহিদা থাকে, তখন এর দাম প্রতি কেজিতে দাঁড়ায় প্রায় ১০০০ – ১২০০ টাকা। এমনকি এই মুরগির প্রতিটি ডিমের দাম ২০-৩০ টাকা। আবার এই মুরগি চাষ করার জন্য আপনি সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সাহায্যও পাবেন।

kadaknath

যার ফলে বর্তমান সময়ে কেবলমাত্র মধ্যপ্রদেশ নয়, দেশের অনেক রাজ্যেই এই মুরগি প্রতিপালনের জন্য ঝোঁক বাড়ছে। উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে ইউনাইটেড পোল্ট্রির দেখাশোনার দায়িত্বে নিযুক্ত আরশি শামসি জানিয়েছেন, যেকোন কেভিকে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র বা CARI Central Avian research institute Bareilly থেকে এই মুরগি চাষের শিক্ষা নেওয়া যাবে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম বিশেষ নক্ষত্র মহেন্দ্র সিং ধোনিও এই মুরগির ব্যবসা করছেন।

অনেকে ভাবছেন যে, এই মুরগী (kadaknath) প্রজাতির মধ্যে কি এমন গুন আছে যার জন্য এর প্রতি কেজি পিছু দাম ১০০০ টাকা। প্রকৃতপক্ষে, এই মুরগির রং যেমন কালো হয়, তেমনি এর শরীরের ভেতরের সমস্ত কিছু এমনকি মাংসও কালো রংয়ের হয়। এই মুরগি বিপুল পরিমাণে আয়রন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং খুবই কম পরিমাণে কোলেস্টেরলও থাকে। ডাক্তারের মতে, এই মুরগির মাংস হার্ট এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দারুন উপকারী।

কড়কনাথ

তবে এই ব্যবসার ক্ষেত্রে শেড সহ মোট ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। প্রথমত, ১০০ টি মুরগি নিয়ে চাষ শুরু করতে হবে। আবার এই মুরগির একটি ডিম ফুটে বাচ্চা হতে সময় লাগে ২১ দিন। ৫ থেকে সাড়ে ৫ মাসের মধ্যে এই বাচ্চাও বিক্রির জন্য উপযুক্ত হয়ে যায়। এই প্রজাতির মুরগির রোগও কম হয় বলে জানা গিয়েছে। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ১০০ টি মুরগি বিক্রি করে বার্ষিক প্রায় ১.২০ লাখ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করা যায়।