Skip to content

13 বছর বয়সে ছেড়েছিলেন বাড়ি, এই দুর্দান্ত আইডিয়ার জেরে আজ 6 হাজার কোটি টাকার মালিক

কিছু কিছু গল্প স্বপ্নের মত হয়। দেশে একদিকে ইঞ্জিনিয়ার-ডাক্তাররা চাকরি পাচ্ছেন না, অন্যদিকে কোনো একজন মাঝপথে পড়ালেখা ছেড়ে কোটিপতি হয়ে যাচ্ছেন। গুজরাটের এই ব্যক্তি এমন কিছু করেছেন যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। সব বাধা অতিক্রম করে তিনি হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। তার কোম্পানি আজ 6,000 কোটি টাকার রপ্তানি করে থাকে। ভারতের সবচেয়ে সুখী কর্মী রয়েছেন এই কোম্পানি তে যারা বোনাস হিসেবে ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং গয়না পান।

এটি গুজরাটের আমরেলি জেলার সাভজি ঢোলাকিয়ার (Savji Dholakia) গল্প। তিনি কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যে এলাকায় থাকতেন সেই জায়গাটি খরায় ভুগছিল। তার বাবাকে তার পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে চরম সংঘর্ষ করতে হয়েছে। তার শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্রের মধ্যে। দারিদ্র্য এবং বঞ্চনার মধ্যে বসবাস করা সত্ত্বেও, সাভজি নিশ্চিত ছিলেন যে একটা দিন আসবে, যখন তিনি তার গন্তব্যে পৌঁছাবেন।

দিন অতিবাহিত হতে থাকে, কিন্তু বাড়ির অবস্থা করুণ ই থেকে যায়। জলবায়ু পরিবর্তন গুজরাটে দারিদ্র্য অবস্থা আরও বাড়িয়ে তুলেছিল, তাই এর প্রভাব স্বরূপ ভালো উৎপাদন হতো না। সাভাজির বয়স যখন তেরো বছর তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে বর্তমান পরিস্থিতি চিরকাল স্থায়ী হবে না। আর বাবাকে বলেন যে সে এখন পড়ালেখা ছেড়ে দেবে। তার বাবা তার ধারণায় খুব রেগে গিয়ে তাকে প্রচন্ড আঘাত করলেন। কিন্তু সাভজি নিজের এবং তার পরিবারের জন্য একটি ভাল জীবন তৈরি করার জন্য জোর দিয়েছিলেন। এরপর চতুর্থ শ্রেণি থেকে পড়া ছেড়ে সুরাটে মামার বাড়িতে এসে হীরা কেন্দ্রে কাজ শুরু করেন।

Savji Dholakiya

তার পিতামাতার অনুপ্রেরণায়, সাভজি সুরাটে চলে আসেন এবং হীরার ব্যবসায় একজন পোলিশ কারিগর হিসাবে কাজ করেন। এটি একটি খুব সামান্য পরিমাণ কাজ ছিল, তার যা প্রাপ্য ছিল শুধু তাই পেত। কিন্তু এই ব্যবসা জানাটা ছিল তার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। সাভজি একজন অধ্যয়নরত ছাত্র ছিলেন এবং শীঘ্রই তার নিজের ছোট ব্যবসা শুরু করার জন্য সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।

1984 সালে, সাভজি তার দুই ভাইয়ের সাথে তার নিজের ছোট হীরা পলিশিং ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম দিকে, তিনি খুব কম অর্ডার পেতেন কারণ এই ব্যবসায় বাজারে অনেক বড় বড় খেলোয়াড় ছিল। সাভজি ব্যবসায় থাকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন এবং 1992 সালে নিজের কোম্পানি শুরু করেছিলেন এবং তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

Savji Dholakiya

বছরের পর বছর পার হতে থেকে এবং এইদিকে সাভজির কোম্পানি দিনে দিনে বড় হতে থাকে এবং প্রচুর মুনাফা করে। তারা প্রায়ই ভাল কর্মচারী পেতেন এবং তাদের নিয়োগ করতেন। সাভজি সততা এবং প্রতিভার মূল্য বুঝতেন। 2014 সালে তার নির্বাচিত 1,200 জন কর্মচারীকে ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং গহনা আকারে প্রায় 50 কোটি টাকার বোনাস দেওয়ার সময় সাভজি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

সাভজি বিশ্বাস করেন যে আপনার দল, সহকর্মীরা আপনাকে আপনার বড় লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে এবং তাই তাদের লাভের ন্যায্য অংশ পাওয়া উচিত। তার কোম্পানি সরাসরি মুম্বাই থেকে প্রায় 50 টি দেশে হীরা রপ্তানি করে। তিনি প্রতিদিন কোম্পানির নোটিশ বক্স চেক করেন যে তার সমস্ত কর্মচারী খুশি কিনা এবং তার কর্মচারীদের অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন।

সাভজি ভাই শুধুমাত্র চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছিলেন, কিন্তু কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার সাথে তিনি এমন কীর্তি অর্জন করেছিলেন যা একজন মহান স্নাতকও কল্পনা করতে পারে না।