Skip to content

সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে KK এর প্রেম কাহানি, প্রেমের জন্য করতে হয়েছিল সেলসের চাকরিও

    ভীষণ মর্মান্তিক একটা সকাল। যে সকাল থেকে কৃষ্ণকুমার কুন্নাত ওরফে কে কে (KK) আর আমাদের মাঝে নেয়। গত 31 may তিনি কলকাতার নজরুল মঞ্চে কলেজ সোশ্যালের জন্য মন মাতানো পারফরম্যান্স করেছিলেন। এই ভারত খ্যাত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী কলকাতাতেই তার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সকালে তার পরিবার কলকাতায় এসে উপস্থিত হয়। তিনি একজন এত বড় সংগীত শিল্পী হয়েও তার পরিবারের সাথে খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতেন। এক কথায় যাকে বলে দে down-to-earth ছিলেন তিনি।

    শুধুমাত্র একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই নয় বরং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও বেশ সুন্দর, স্বাভাবিক ও স্বচ্ছল ছিল। তিনি তার ছোটবেলার বান্ধবী কে নিজের জীবনসঙ্গী করেছিলেন। তার স্ত্রী জ্যোতি কৃষ্ণার সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনের বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তবে যেন এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করা যাচ্ছে না তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। হঠাৎ করেই সবকিছু থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন তিনি। তবে শুধু এই ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের নয় এর পূর্বে তার স্ত্রীর সাথে তার বেশ কয়েক বছরের সম্পর্ক ছিল। নিজের ছোটবেলার বান্ধবীকে প্রেমিকা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন আমাদের কে কে (K K)। আজ আমরা এই প্রতিবেদনে আপনাদের তোর প্রেম কাহিনী সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য চলেছি।

    KK and Jyoti Krishna

    নিজের সঙ্গীর প্রতি অটুট বিশ্বাস:-

    কে কে এবং তার স্ত্রী প্রতি সময় দুজনে দুজনের পাশে থেকেছেন। আমরা যেমন ভালো সময়ে সঙ্গীর পাশে থাকি তেমন খারাপ সময় থাকা উচিত সে কথা প্রমাণ করেছেন এই প্রেমে পূর্ণতা দেওয়া দম্পতিরা। কঠিন সময়ে একে অপরের হাত ছেড়ে যাননি তারা। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও ভরসা থাকলে সুদিনেরও সাক্ষী হওয়া যায়। যত সময় এগিয়েছে ততো বদলেছে বহু নিয়ম। কিন্তু যদি প্রেমটি সঠিক হয় তাহলে সে  সম্পর্কের বয়স ৩০ হোক বা যাই হোক না কেন, তাতে  সম্পর্কটি পূর্ণতা পাবেই। কে কে ও জ্যোতির ক্ষেত্রেও তাদের প্রেমকাহিনী এত সহজ ছিল না। কিন্তু তাদের অটুট বিশ্বাসে তারা একে অপরের কোনদিনও হাত ছেড়ে যায়নি। সুতরাং আমাদের প্রিয় সংগীত শিল্পী নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তার জীবন সঙ্গিনী হিসেবে তার প্রেমিকাকে যোগ্য মনে করেছিলেন। তারা দীর্ঘ বছর সুখী দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন।

    Krishna Kumar kunnath

    প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লড়াই:-

    পাত্রির পরিবার বিয়ের পূর্বে পাত্র চাকরির খোঁজখবর চালায়। এই নিয়ম একদম প্রথম থেকেই চলে আসছে। প্রেমিকের চাকরি না থাকায় কত প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেছে এবং কত প্রেমিক-প্রেমিকাকে চোখের জল ফেলতে হয়েছে সেই গণনার শেষ নেই। কারণ বাড়ি থেকেই সম্পর্ক তাদের কোনদিনই মেনে নেবে না। কোন কাজ না করা ছেলের সঙ্গে কোন পরিবারে তার মেয়েকে বিয়ে দেবে না। সুস্থভাবে জীবনযাপন করার জন্য একটি ছেলের চাকরির খুবই প্রয়োজন।

    See also  আপনি কি জানেন তাজমহল সহ ভারতের এই স্থাপত্য গুলির হুবহু একই রকম অনুকরণ রয়েছে ভারতের এই স্থান গুলোতে!

    তাই বর্তমানে এখনো মেয়েদের থেকে ছেলেদের চাকরির প্রতি বেশি জোর দেয়া হয়। তবে শুধু সাধারণ মানুষ নয় অনেক তারকাদেরও তাদের জীবনের সংগ্রামের সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। কে কে (K K) তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি তার প্রেমিকাকে বিয়ে করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। এবং সেই সময় তাঁর স্ত্রী জ্যোতি সম্পর্কটি ত্যাগ না করে বরং তার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অবধি পাশে ছিলেন। আমাদের এই বিষয়টি বিশেষভাবে শেখা প্রয়োজন। এই দিক থেকে KK এবং তার স্ত্রী আমাদের অনেকটাই উৎসাহিত করেন।

    Kk love story

    কেকে সেলসম্যানের চাকরিও করেছেন:-

    এ কথাটা শুনলে আপনি বেশ বিস্মিত হবেন যে কেকের মতো একজন জগৎ বিখ্যাত শিল্পী তার নিজের প্রেমের সম্পর্কে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য সেলসম্যানের চাকরি করেছেন। ১৯৯১ সালে এই বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে এই বিয়ের পথ একেবারেই সমস্যাহীন ছিল না। কারণ সেই সময়ে বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী কোন চাকরি করতেন না এক কথায় বলা যায় পাত্রীর পরিবারের কাছে তিনি একজন বেকার যুবক হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। তাই তিনি নিজের প্রেমিকাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি রাখার জন্য সেলসম্যানের চাকরি করেছেন এমনকি এ কথা তিনি একটি চ্যাট শো তে জানিয়েও ছিলেন। কিন্তু বিয়ের তিন মাস পরেই থাকেই চাকরি ছেড়ে দিতে হয়।

    Kk

    কঠিন সময়ে তাঁর স্ত্রীই তার পাশে ছিলেন:-

    যেসময় কে কে (K K) প্রতিষ্ঠিত হন নি সেই সময় থেকেই তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তার ভাল সম্পর্ক ছিল এমনকি তারা বিবাহ করেছিলেন। ১৯৯১ সালে তারা দুজনে বিয়ে করে এবং ১৯৯৯ সালে এই বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী কেকের প্রথম অ্যালবাম রিলিজ হয়। যদিও এর পর থেকে তাদের আর এই কষ্টকর জীবন কাটাতে হয়নি। কিন্তু এর পূর্বে এত বছর ধরে তারা একে অপরের পাশে থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

    অর্থাৎ বলা যায় তারা দুজন দুজনের প্রচেষ্টায়, ভালোবাসা এবং বিশ্বাসে একটি দীর্ঘ চিরসবুজ সম্পর্ক উপভোগ করেছেন।