Skip to content

বিশ্বের এমন ৪ টি অদ্ভুত জায়গা যেখানে মানুষের যাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিষেধ! কিন্তু কেন? কি আছে সেখানে?

    img 20221022 222314

    বিচিত্রতায় ভরা আমাদের পৃথিবী। দিনে দিনে আরও বেড়ে চলেছে এই বৈচিত্র্যতা। বেড়ে চলেছে মানুষের সংখ্যা। মানুষের বৈচিত্র্যই আলাদা, কিন্তু একমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই পারে মানুষের বৈচিত্র্যকে টেক্কা দিতে। জগতে সবচেয়ে আশ্চর্য গ্রহ হল পৃথিবী। তবে এখানে বেশ কিছু জায়গা আছে যেগুলি বিপজ্জনক এবং সেখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই রহস্যময় বিপদজনক জায়গাগুলি এখনো সম্পূর্ণ অনাবৃত।

    Island

    প্রত্যেকে এই স্থানগুলি সম্পর্কে খুব কমই জানেন। তাই এই স্থানগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে এই স্থানগুলোর জন্য দূর থেকে কৌতুহল দেখানো শ্রেয়। কারণ এই জায়গাগুলির কাছ থেকে দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দূর থেকে চোখে দেখেই জায়গা গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে নিতে হয়।

    ১)জাপানের ​ইসে গ্র্যান্ড শ্রাইন :-

    জাপানের ​ইসে গ্র্যান্ড শ্রাইন

    শুধু ভারতেই নয় জাপানেও মন্দির, রীতি সংস্কৃতির জন্য বেশ বিখ্যাত। প্রায় আট হাজারেরও বেশি মন্দির রয়েছে এই ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র জাপানে। আর এই মন্দির গুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ও ব্যায়বহুল হল ইসে গ্র্যান্ড শ্রাইন মন্দির। এই মন্দিরের আরাধ্যা দেবী হলেন জাপানের সূর্যের দেবী আমাতেরাসুর। জানা গেছে, এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল সপ্তম শতকে। প্রতি কুড়ি বছর অন্তর শিনতো রীতি মেনে মন্দির সংস্কার করা হয়।  এই মন্দিরের স্থাপত্য নাকি অসাধারণ শিল্প নিয়ে গড়া। এই দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। কোন সাধারণ মানুষ এই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন না। পুরোহিতরা ছাড়াও শুধুমাত্র রাজ পরিবারের সদস্যরা এই মন্দিরের প্রবেশ করার অনুমতি পান। তাই পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত সৌন্দর্যপূর্ণ মন্দির ইসে গ্র্যান্ড শ্রাইনকে দূর থেকে দেখেই মন ভোলাতে হবে।

    ২) ব্রাজিলের সর্প দ্বীপ :-

    ব্রাজিলের সর্প দ্বীপ

    ব্রাজিলের ইলহা ডা কিউমাডা গ্রান্ডে এই দ্বীপটি সর্প দ্বীপ নামেই পরিচিত। সারা বিশ্বের সাপেদের যত দ্বীপ রয়েছে তার মধ্যে এই দ্বীপ অন্যতম। সাওপাওলো রাজ্যের উপকূলের আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝে প্রায় ৪ লক্ষ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনসম্পন্ন এই দ্বীপটি অবস্থিত। এই দ্বীপটিতে শুধু সাপ ছাড়াও প্রায় ৪১ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বিখ্যাত পিট ভাইপার সাপেরা একমাত্র এই ইলহা ডা কিউমাডা গ্রান্ডেই বাস করে। পাখি হলো এদের প্রধান খাদ্য।

    See also  বাংলাদেশের এই ৯ জন অভিনেত্রীর সৌন্দর্যের কাছে পাত্তা পাবে না বলিউডের তাবড় তাবড় অভিনেত্রীরাও!

    এই দ্বীপের নাম শুনলেই মনে হয় এ যেন রূপকথার রাজ্যের সেই সাপের রাজ্যের দ্বীপ। মানুষ গেলে এই দ্বীপে আর প্রাণে ফিরে পাওয়া যাবে না তাকে। বাস্তবেও তাই,  এই দ্বীপে বিষাক্ত সাপেদের বাসস্থান হওয়ায় সেখানে সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রবেশ নিষিদ্ধ।

    ৩) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিহাউ দ্বীপ :-

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিহাউ দ্বীপ

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিহাউ দ্বীপ বিশ্বের নিষিদ্ধ স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। পর্যটন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই দ্বীপে প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও এখানে মানুষের বসতি রয়েছে। ১৬০ জন বাসিন্দা এই দ্বীপে বসবাস করেন। এরা প্রত্যেকেই নৌ সেনাবাহিনীর পরিবারের সদস্য। শুধুমাত্র মার্কিন নৌ সেনাবাহিনীর আত্মীয় হলেই এই দ্বীপে প্রবেশ করা যায়। প্রধানত এই দ্বীপের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার কারণে বাইরের কোন মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া নিষিদ্ধ। এই দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপূর্ব সুন্দরতায় ভরপুর। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সাধারণ মানুষকে দূর থেকেই দেখতে হবে, সামনাসামনি যাওয়ার কোনও অধিকার নেই।

    ৪) চিনের ​কিন শি হুয়াং-এর সমাধি :-

    চিনের ​কিন শি হুয়াং-এর সমাধি

    নিয়মিত যারা হলিউডি অ্যাডভেঞ্চার মুভি দেখতে অভ্যস্ত, তারা নিশ্চয়ই দেখেছেন দ্য মমি, টম্ব অফ দ্য ড্রাগন এমপেরর মতো সিনেমাগুলি। এই ছবিগুলির গল্পগুলির প্রেক্ষাপট ছিল চিনের কিং শি হুয়াং রাজার সমাধি। এই চিনা রাজার সমাধি নিয়ে অনেক কাল্পনিক দৃশ্য দেখানো হলেও বাস্তবে কিন্তু এই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য সকলের হয় না। প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন চিনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং-এর পিরামিডটি।

    রাজা শি হুয়াং সিংহাসনে বসার পরই নিজেই নিজের কবর তৈরি করেন। টেরাকোটার একটি বিশাল মানুষের মূর্তি এবং পূর্ণাকার সৈন্যবাহিনী তৈরি করা হয় কবরের ভিতরে। দেহর নিরাপত্তা এবং পরজন্মে পুনরায় রাজা হওয়ার তাগিদেই এটি তৈরি করা হয়। ৩৬ বছর ধরে প্রায় ৭ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক এই সমাধি নির্মাণ করেন। বলা হয় যে এই সমাধি নাকি এক প্রকার অভিশপ্ত। তাই এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ।