হোটেলের রাঁধুনি বানাচ্ছিল সাপের সুপ, ২০ মিনিট পরে মৃত সাপের মাথা নিল প্রতিশোধ

এ পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন দেশে মানুষের খাদ্যাভাস ভিন্ন ভিন্ন রয়েছে। এমনকি আমাদের দেশেরও বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা আলাদা ধরনের খাদ্যাভাস দেখতে পাওয়া যায়। বেশ কয়েকটি দেশে তো এমন এমন কিছু খাবার খাওয়া হয় যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। এই দিক থেকে বিচার করলে মানুষের মাথায় সর্বপ্রথম যে দেশের নাম আসে তা হল চীন। চীনের মানুষের প্রিয় খাবারগুলির তালিকা শুনলে যেকোনো সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। আর চীনের এই খাদ্যাভ্যাসের জন্যই প্রাণ দিতে হল এক চৈনিক বাবুর্চিকে।

সাপের সুপ

মানুষ এই জন্মের কর্মফল এই জন্মেই পেয়ে থাকে। আর এই উক্তির প্রমাণ দিল চীনের এক রেস্টুরেন্টের ঘটনা। বস্তুত, চীনের মানুষদের প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে অক্টোপাস, সাপ, স্কুইড ইত্যাদি। আর এদের মধ্যে সবচেয়ে বিষাক্ত হলো সাপ। কিছু কিছু সাপ আবার খুবই বিষাক্ত হয়ে থাকে।

Snake

আমাদের দেশে যেখানে সাপকে দেবতা রূপে পূজা করা হয়, সেখানে চীন দেশের লোকেরা বিষাক্ত সাপের সুপ খেতে খুবই পছন্দ করেন। এইজন্যই চীনের রাঁধুনিরা জ্যান্ত সাপ মেরে সুপ তৈরি করেন। কিন্তু এই সুপ বানাতে গিয়ে মৃত্যু হল চীনের রেস্টুরেন্টের এক বাবুর্চির। সম্প্রতি এমনই খবর এসেছে দক্ষিণ চীন থেকে।

সম্প্রতি, দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ফোশান শহরের বাসিন্দা এবং পেশায় শেফ পেং ফ্যান ইন্দোচীনের থুতু ছিটানো কোবরা সাপের মাংস থেকে সুপ তৈরি করছিলেন। সাপের মাথাটি কেটে ফেলার পর পেং ফ্যান সেটিকে পাশে নামিয়ে রেখেছিলেন। এরপর প্রায় ২০ মিনিট পর সেটিকে ডাস্টবিনে ফেলার জন্য তুলতেই সাপের মাথাটি তার হাতে কামড় দিয়ে বসে। এতক্ষণ পরেও যে সাপের কাটা মাথাটি বেঁচে থাকতে পারে এই বিষয়ে কোনো ধারনাই ছিল না শেফের।

রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া এক ব্যক্তি লিন সান বলেছেন, “আমরা স্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে রেস্তোরাঁয় ডিনার করছিলাম, হঠাৎ অনেক শোরগোল শুরু হয়। আমরা জানতাম না যে কি হয়েছে। কিন্তু রান্নাঘর থেকে লাগাতার চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। পরে জানা যায়, বাবুর্চিকে সাপ কামড়েছে। এরপরে সেখানে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায়। ডাক্তার ডাকা হলেও যখন তিনি শেফের কাছে পৌঁছান ততক্ষণে তিনি মারা যান।” এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ জানায় যে, এটি খুবই বিস্ময়কর ঘটনা। এই ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

 

তবে শেফকে বাঁচানোর জন্য ডাক্তার ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাপ তথা অন্যান্য সরীসৃপ মারা যাওয়ার ১ ঘণ্টা পরও তারা নড়াচড়া করতে পারে। এরমধ্যে কোবরার বিষ খুবই ভয়ঙ্কর। কোবরার কামড়ের পর যে কোন মানুষ ৩০ মিনিটের মধ্যে মারা যেতে পারে নতুবা পক্ষাপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে।