দীর্ঘদিন পর স্কুল খুললেও গ্যারেজের কাজ ছেড়ে স্কুলে যেতে নারাজ দুই প্রানের বন্ধু

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সমস্ত স্কুল-কলেজ দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বন্ধ থাকার পর কিছুদিন হলো আবার নতুন করে স্কুলের দরজা খুলছে পড়ুয়াদের জন্য । এই রাজ্যেও তার অন্যথা হয়নি । দুদিন হল রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজ খুলে গেছে। এতে খুবই আনন্দিত ঘরে এতদিন বন্দি থাকা পড়ুয়ারা । কিন্তু জলপাইগুড়ির দুই পড়ুয়ার মুখে হাসি নেই । দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন করে স্কুল খুললেও এই দুই পড়ুয়া স্কুলে যেতে নারাজ। জলপাইগুড়ি বাসিন্দা এই দুই পড়ুয়া হলো প্রানের বন্ধু একসাথে ওঠাবসা খেলা সবকিছু দুইজনই দশম শ্রেণীর ছাত্র।

কিন্তু এই দিন মঙ্গলবার স্কুল খোলার পর তারা স্কুলে যেতে নারাজ ।কেন তারা স্কুল যাবে না একথা জিজ্ঞাসা করতে কিছুক্ষণ চুপ থাকে দুই জন । তবে এক বন্ধু লাজুক হলেও অন্যজন খুবই সোজাসাপ্টা কথা বলে । স্কুল না যাওয়ার কারণ হিসাবে সে চটপট উত্তর দেয় ,”দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার ফলে গ্যারেজের কাজে ঢুকেছিলাম। গ্যারেজের কাজ অনেকটাই শিখে গেছি। তাই আর স্কুলে যাব না । তাছাড়া পড়তে বসলে আমার ঘুম পায়। ” অপর বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করতে সেও লাজুক মুখে বলে , “স্কুলে গেলে তো আর গ্যারেজে কাজ হবে না ।কাজের সময় নষ্ট করা যাবে না। ”

জলপাইগুড়ি জেলায় রায়কতপাড়ার বাসিন্দা দশম শ্রেণির দুই ছাত্রের নাম হল সায়ন তন্ত্র এবং রোহিত তন্ত্র। দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুল বন্ধ থাকার ফলে বাড়ির কাছে একটি গ্যারেজের কাজে লেগেছিল। এই দুজনের অবস্থা খুবই খারাপ। মা-বাবা দিদি দায়িত্ব নেবার জন্য তাদের কাজে লাগতে হয়েছিল। দুজনের এখন স্কুলে যাবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো গ্যারেজের কাজ শেখা । গত ছয় মাস ধরে তারা এই কাজ করছে । তারা দুজনেই জলপাইগুড়ি জেলার সোনাউল্লাহ স্কুলের ছাত্র। এই দিন গ্যারেজের কাজ করার ফাঁকে সায়ন তন্ত্র বলে , “বাড়ির সামনে আমি একটি নিজের গ্যারেজ খুলবো “।

পুরোহিত তন্ত্রের অবস্থাও একই রকম। রোহিত কে জিজ্ঞাসা করতে এসে বলে, “বাবা রোজগার বেশি নয় ।আমি যদি এই কাজ করে রোজগার করি তাহলে বাড়িতে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ আসবে। “প্রতিবেদক দের কথার উত্তর দিতে দিতে এই দুই বন্ধু বলে কিছুদিন আগে কিন্তু অবস্থা এরকম ছিল না। তারা যথেষ্ট মন দিয়ে লেখাপড়া করতো। স্কুলে যখন পর তারা স্বপ্ন দেখত স্কুল শেষ করে কলেজে পাড়ি দেবে  তারপর একটা চাকরি জোগাড় করবে।

সায়নের স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যতে শিক্ষক হবার। কিন্তু দেশে করোনা মহামারী আসার ফলে তাদের জীবনটা পাল্টে যায় । অনলাইনে পড়াশোনা চালানোর মত অবস্থা তাদের ছিলনা। ছিলনা স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য । সায়ন বলে, “মোবাইলে পড়াশোনা করতে ভালো লাগেনা”। মঙ্গলবার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্কুল কলেজ খুলছে স্কুলের ঘর থেকে ক্লাসরুম, ঘন্টা ,টেবিল, চেয়ার সবকিছু সাফাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে রোহিত এবং সায়ন লেগে পরেছে গ্যারেজের যন্ত্রপাতি গাড়ি ইত্যাদির সাফাই করতে । যেই হাতে পেন ধরার কথা ছিল, সেই হাতে এখন তারা শক্ত করে এঁটে দিচ্ছে গাড়ির স্ক্রু।