Skip to content

কলকাতা আসানসোলের পর আন্তর্জাতিক মানের রেলওয়ে স্টেশন হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের আরও দুটি শহরকে

    ভারতবর্ষে দৈনন্দিন জীবনে যাতায়াত মাধ্যমের ক্ষেত্রে ভারতীয় রেল (Indian railway) বিশেষ ভূমিকা পালন করে। গোটা ভারতবর্ষে যাত্রীরা যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে রেলপথ কে বিশেষ পছন্দ করেন। কারণ ট্রেনে যাত্রা যেমন আরামদায়ক তেমনি সাশ্রয়ী। কোথায় বলতে গেলে রেলপথ ভারতীয়দের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

    ভারত এর রেলের নেটওয়ার্ক বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। সেই ব্রিটিশ আমলে 1853 সালে প্রথম ভারতবর্ষে রেলের সূচনা। আজ ভারতবর্ষে 7349 টি রেল স্টেশনে প্রায় 1,15000 কিলোমিটার এরিয়া জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে রেল নেটওয়ার্ক। স্টেশন গুলি থেকে বর্তমানে 7000 এর বেশি মালবাহী ট্রেন এবং কুড়ি হাজারের বেশি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। আপনি এই পরিসংখ্যান দেখে বুঝতেই পারছেন ভারতবর্ষে রেল কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

    Hitech railway

    ভারতের রেলের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বর্তমানে ভারত সহ বিভিন্ন স্থানে স্টেশন গুলিকে উন্নত মানের করা হচ্ছে। এই পোস্টের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষজন সবচেয়ে বেশি খুশি হতে চলেছেন কারণ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু রেল স্টেশন কে উন্নত মানের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর জন্য বিশাল সংখ্যক টাকা বরাদ্দ করেছে ভারতীয় রেল।

    আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে জেনে থাকবেন আন্তর্জাতিক সুবিধে সম্পন্ন রেল স্টেশন পশ্চিমবঙ্গ খুব কমই রয়েছে। সাথে কোন কয়েকটি তার মধ্যে নাম হল কলকাতা,আসানসোল ইত্যাদি। তবে রেলের পক্ষ থেকে আরও বেশ কিছু রেলস্টেশনকে আন্তর্জাতিক সুবিধা সম্পন্ন উন্নতমানের করে তোলা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই রেল স্টেশন গুলি হল রানিগঞ্জ, বোলপুর, বহরমপুর কোর্ট ও সুলতানগঞ্জ। এই রেল স্টেশন গুলিকে আন্তর্জাতিক সুবিধ সম্পন্ন করে তোলার জন্য রেল দপ্তরের কাছে অনুমোদন এর জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাস হয়ে গেলেই ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে।

    Modern railway

    পূর্ব রেলের দশটি স্টেশন কে আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দশটি স্টেশনের মধ্যে আপাতত আসানসোল, ভাগলপুর ও হাওড়ার ক্ষেত্রে টেন্ডার করে ডিপিআর তৈরি হয়েছে। বাকি স্টেশন গুলির ডিপিআর তৈরীর কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে।

    • স্টেশন তৈরির সময়সীমা ও খরচ

    একটি রিপোর্ট থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী প্রতিটি স্টেশনের জন্য প্রায় 200 থেকে 300 কোটি টাকা খরচ হতে চলেছে এবং স্টেশন গুলির কাজ দু থেকে তিন বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।

    • স্টেশন গুলির বৈশিষ্ট্য তথা নতুনত্ব কি কি থাকবে?

    স্টেশন গুলিকে এয়ারপোর্টের আদলে তৈরি করা হবে। স্টেশনে প্রবেশ ও বাইরে বেরোনোর জন্য পৃথক পৃথক গেট তৈরি করা হবে। এছাড়াও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য লিফট ও এস্কেলেটর এর ব্যবস্থা থাকবে।

    Modern railway station

    • আরো একাধিক সুবিধা।

    সব সময় কোন প্লাটফর্মে কোন ট্রেন আসছে এটি যাত্রীদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সেজন্য যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল মনিটর লাগানো হবে। ওয়েটিং রুমে লাগানো থাকবে ডিজিটাল মনিটর। সেই মনিটারে প্ল্যাটফর্ম নম্বর ট্রেনের নম্বর সময় সব কিছু উল্লেখ থাকবে।। স্টেশনগুলোতে মল এবং শপিং করার জায়গা থাকবে। এই শপিং সেন্টারগুলিতে রেলযাত্রীসহ বহিরাগতরাও শপিং করতে পারবেন। এছাড়াও স্টেশনে থাকবে ক্যান্টিনের সুব্যবস্থা। যেখানে দুপুরের রাতের সব রকম খাবার পাওয়া যাবে। এবং সমস্ত প্ল্যাটফর্মটি থাকবে সিসিটিভি এর নজরদারিতে। এর ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরো ভালো হবে।