Skip to content

3 বছরের আইনি লড়াইয়ের পর মাত্র 2 টাকার জন্য রেলকে দিতে হবে 2.43 কোটি টাকা ফেরত

    রেলকে দিতে হবে ২ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। তবে কেন এত টাকা দিতে হবে? আমাদের দেশে সরকারি কাজে খুবই ভুল হতে দেখা যায়। এটা এমন কোনও নতুন ব্যাপার নয়। অধিকাংশ মানুষ এই ভুলগুলো উপেক্ষা করে বেরিয়ে যায়। তবে দেশে এখনো অনেক মানুষ রয়েছে যারা নিজেদের অধিকার ছাড়তে একেবারেই নারাজ। এমনকি স্বল্প পয়সার জন্যও কোর্টে মামলা করতে তারা পিছপা হন না। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। ২ টাকার জন্য কোর্টে মামলা করেছেন এক ব্যক্তি।

    Surojit

    আপনি শুনলে অবাক হবেন এই একজন ব্যক্তি ৩৫ টাকা লোকসানের জন্য রেলকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ২ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে। কিন্ত আসল ব্যাপারটা কি? চলুন এই ব্যাপার সম্বন্ধে জানা যাক বিস্তারিত। রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা সুরজিৎ স্বামীর কারণে উপকৃত হয়েছেন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ। জনগণ মোটা কোনো বড় অঙ্কের অর্থ না পেলেও রেলের ক্ষতি হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকা। আসলে ব্যাপারটা হল রাজস্থানে সুরজিৎ রেল থেকেই ৩৫ টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বিগত ৫ বছর ধরে রেলওয়ের সাথে আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন এবং অবশেষে তিনি জয়ী হয়েছেন।

    Surojit

    এই গল্পের শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে। ঐই দিন সুরজিৎ গোল্ডেন টেম্পল মেলে কোটা থেকে দিল্লিগামী রেলের টিকিট বুক করে ছিলেন। এরপর জুলাই থেকে GST নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয় কিন্তু সুরজিৎ স্বামী তার পূর্বেই টিকিট বাতিল করেছিলেন। তার এই  টিকিটের মোট মূল্য ছিল ৭৬৫ টাকা। টিকিট ক্যানসেল করার কারণে ১০০ টাকা কেটে নিয়ে তিনি মোট ফেরত পেয়েছিলেন ৬৬৫ টাকা। তবে সুরঞ্জিত বাবুর দাবি ছিল তার কাছ থেকে রেলের ১০০ টাকা নয় বরং ৬৫ টাকা কাটা উচিত ছিল।

    তার অভিযোগ ছিল যে পণ্যপরিসেবাকর GST কার্যকর করার আগেই তিনি ট্রেনের টিকিট বাতিল করলেও পরিষেবা কর বাবর তার কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩৫ টাকা আদায় করা হয়েছিল। সুরজিৎ আরও দাবি করেছেন যে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন তার আরটিআই আবেদন জবাবে জানান যে মোট ২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা ব্যবহারকারী তাদের প্রতিটি টিকিট এর জন্য ৩৫ টাকা ফেরত পাবেন অর্থাৎ রেলকে খরচ করতে হবে মোট ২ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা।

    See also  বচ্চন পরিবারের বউ ঐশ্বর্য রায়ের ব্যাক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ দেখলে লজ্জা পাবে ধনকুবেরাও

    Indian railway

    সুরজিৎ এটাও বলেছেন যে তিনি তার ৩৫  টাকা ফেরত পেতে রেলমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, GST কাউন্সিল এবং অর্থমন্ত্রীকে ট্যাগ করে বারবার টুইট করেছেন।  এরপর রেল ও অর্থ মন্ত্রকের কাছে আরটিআই আবেদন কাটিয়ে সুরজিৎ তার লড়াই শুরু করেছিলেন। সেই আবেদনে তিনি তার ৩৫ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানান। এই আবেদনের জবাবে তাকে জানানো হয় যে তাকে তার প্রাপ্য টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

    তবে গল্পটি শুধু এখানেই ইতি টানেনি। রয়েছে আরও একটি বড় ঘটনা। সুরজিৎ এর মতে তিনি ২০১৯ সালে তিনি টাকা ফেরত পেলেও সেখান থেকেও দুই টাকা কেটে নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ৩৫ টাকার পরিবর্তে তিনি পেয়েছিলেন ৩৩ টাকা। তবে তিনি নিজের ন্যায্য পাওনা পেতে পিছপা হননি। এই দুই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্যই তিনি লড়াই শুরু করেন। এরপর গত শুক্রবার এই ব্যক্তি তার লড়াইয়ে জয়ী হয়ে ২ টাকাও ফেরত পেয়েছেন। স্বামীর মধ্যে আইআরসিটিজির একজন কর্তা তাকে জানিয়েছেন যে, রেলওয়ে বোর্ড সমস্ত ২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা ব্যবহারকারীকে মোট ৩৫ টা ফিরিয়ে দেবার অনুমোদন দিয়েছেন।

    যদিও তিনি এই ঘটনায় জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৩৬৫ টাকা দান করেন। তার মতে তিনি টাকার অঙ্ক নয় বরং নিজের ন্যায্য পাওনা বুঝে নিয়েছেন।